পিকনিকে মৌসি

0
14

শ্যামল রায় একজন পুরুষের কাছে মৌসি ভালোবাসার প্রেমিকা হয়ে উঠবে ভাবতে পারছে না কখনো। গভীর রাতের কোন এক ব্যালকনিতে হাটা চলা করতে গিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে তার মনের ভিতর। মৌসি বারবার ভাবতে গিয়ে ভেসে উঠেছে সেই পুরুষের ছবি। যে পুরুষ ওই হুল্লোড় করা পিকনিকের মাঝে বারবার মৌসিকে ভালোবাসার প্রস্তাব দিয়েছে। নিজেকে থমকে দাঁড়াতে হয়েছে। অথচ ওই পুরুষ ভালবাসায় পাগল মৌসিকে দেখতে পেয়ে। মৌশি যেখানে ঘুরতে বা রেস্ট নিতে বেরিয়ে পড়ছে সেখানে হাজির সুমি। সুমি তার স্ত্রী এবং এক মেয়েকে নিয়ে পিকনিক করতে গিয়েছে। কলকাতা সংলগ্ন কোন এক জায়গায় মনোরম পরিবেশে। চারিদিক প্রাকৃতিক পরিবেশ পাশে নদী সেখানেই পাড়ার সকলে মিলে পিকনিকে। মৌশি পাড়ার সকল দের সাথে নিজেও অংশগ্রহণ করেছে। এককথায় মৌসি দেখতে অনবদ্য সুন্দরী। কথায় বলে যেখানেই যাবে সেখানেই চোখে পড়ার মতো মৌসি সুন্দরী নারী। সন্ধ্যা নেমে এসেছে । মৌসির একমাত্র বয়ফ্রেন্ড শ্যামল। মৌসি শ্যামল কে বলছে পিকনিকে গিয়ে এক অবাক কান্ডের মধ্যে ভালোবাসার রকমভেদ দেখতে পেলাম। এক যুবক মনে হয় আমাকে দেখে উতাল পাতাল ঢেউ এর মত ভালবাসার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছিল। আমি বারবার বুঝতে পারছি ওই যুবক আমাকে দেখে পাগল হবার মতো ঢেউ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাকে বারবার এক চোখে দেখছে বারবার আমাকে ইশারা করছে আমি যেন তার প্রতি আকৃষ্ট হই। কখনো ইশারা দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে আমার অনেক টাকা আছে হাতে সোনার ব্রেসলেট পর্যন্ত দেখাতে ভুলছে না ওই যুবক। শুধুমাত্র একটুখানি ভালোবাসা ।একটুখানি চাওয়া ।একটুখানি পাওয়া। এই রকম চিন্তাটাই বোধহয় ওই যুবকের মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল। এ কথাগুলো শ্যামলকে বলতে গিয়ে সৌমি নিজে খুব হেসে উঠেছিল। শ্যামল বলে ফেলেছিল বাহ তোমার কত ডিমান্ড তুমি যেখানেই যাও সেখানেই তোমার পিছন ছাড়ে না অন্য পুরুষ। মৌসি একগাল হেসে বলেছিল আমি মোটেই ওই রকম জায়গায় পা বাড়ায় নি কোনোদিন বাড়াবো না। শ্যামলের মুখ আমার মুখ জুড়ে আছে। তাই অন্য কিছু ভাবার আমার সময় নেই। সৌমি ফের এক গাল হেসে বলল জানো তো শ্যামল ওই পুরুষ পিকনিক শেষে যখন বাড়ি ফিরে যাবে তার আগে আমাকে বলেই ফেলল প্লিজ ফোন নাম্বারটা দেবেন দরকার ছিল। আমি বলে ফেলেছিলাম আমার কোন ফোন নেই নাম্বার পাব কোথায়? ওই যুবক স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে চার চাকার গাড়ি চালিয়ে আমাকে বাই বাই টাটা বলে নিমেষের মধ্যে চলে গেল। আমি ভেবেছিলাম তার স্ত্রী রয়েছে এখানে ওই যুবক যেরকমটা করছে আমাকে দেখে স্ত্রী কিছু বলবে না তো? আবার ভাবলাম এরকম তো হয়। আমার প্রতি এতটাই আকৃষ্ট হচ্ছে কেন ওই পুরুষ? শ্যামল একগাল হেসে বলেছিল তুমি তো অসাধারণ সুন্দরী তোমাকে দেখলে যে কোন পুরুষ তোমার দিকে হাত বাড়াবে ই। তুমি তো আবার দুহাত বাড়িয়ে দাও নি তো? কি জানি মৌসির কথা শুনতে শুনতে শ্যামল দু চোখ বন্ধ করে ভাবতে থাকে তাহলে সৌমি কি এতটাই সুন্দরী যে যে কোন পুরুষ তার দিকে নজর বাড়ায় তার পাশাপাশি থাকতে নিজেকে পাগল করে তোলে? মৌসি দু গাল হেসে বলে শ্যামল তোমার মুখ তো আমার কাছে, অন্য কেউ পাবে কেন? তবে এটাও সত্যি এখন মুখ গুলো যেন এলোমেলো প্রজাপতির ডানার মতো। কখন কার কাছে দুহাত উজার করে দেয় বুঝা মুশকিল। এখন আর এক প্রজাপতির কাছে এক প্রজাপতি শান্ত স্নিগ্ধ ভাবে দীর্ঘস্থায়ী জীবন যাপনে নিজেকে শামিল করতে পারে কি না প্রশ্ন? তবে মৌসি মাঝেমধ্যে বলে থাকে ভালোর শেষ নেই চাহিদার শেষ নেই তবুও যতটুকু সম্ভব ভালো কে অবলম্বন করে ভালো থাকাটাই আমার কাছে বড় প্রাপ্তি। এটাও পিকনিকের হই-হুল্লোড়ের এক দৃশ্যমান সিনেমার মুহূর্ত। আমি আমার মত ভালোবাসায় আমার শ্যামলের মুখ। একাধিক কোন কিছু ক্ষণস্থায়ী। কখনো দীর্ঘস্থায়ী সত্য হতে পারে না। তাই জলের কাছে সূর্যের কাছে আমি একজন সত্তিকারের শ্যামল বোনের জুঁই ফুল।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here