বিদায়ের বর্ষপূর্তি ফিরে দেখা বাঙালির চিরকালের প্রিয় ‘ফেলুদা’-কে

0
30

বিদায়ের বর্ষপূর্তি ফিরে দেখা বাঙালির চিরকালের প্রিয় ‘অপু’-কে। আজ, ১৫ নভেম্বর অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকী। একবছর আগে এই দিনটিতেই করোনা আক্রান্ত হয়ে সৌমিত্র ভক্তকুলকে কাঁদিয়ে টলিউড থেকে চিরবিদায় নিয়েছিলেন তিনি।ফেলুদার মগজাস্ত্র আবার কখনও অপু, বাঙালি যাঁর কাছে চির ঋণী, তিনিই অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। যদিও তাঁকে শুধু অভিনেতা বললে ভুল হবে, তিনি একজন শিল্পীও। তাই ১৫ নভেম্বর,আপামর বাঙালির বড্ড বিষাদের দিন। ৬০ বছরেরও বেশি অভিনয় জীবনে ৩০০-র বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয়। এহেন অভিনেতার চলে যাওয়াটা যেন আজও মেনে নিতে পারছে না বিনোদন তথা বাঙালিরা। সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে যেন জুড়ে রয়েছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় । এছাড়াও তখনকার সময়ের বিখ্যাত পরিচালক মৃণাল সেন থেকে তপন সিংহ, আবার হালফিলের শিবপ্রসাদ-নন্দিতা জুটির সঙ্গে কাজ করে একের পর এক স্মরণীয় চরিত্রের জন্ম দিয়েছেন। সালটা ১৯৬১। ‘ঝিন্দের বন্দী’-ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে দেখে রীতিমতো হতবাক হয়েছিলেন। এই ছবিতেই প্রথম খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে সকলকে চমকে দিয়েছেনন সৌমিত্র । নায়ক অপু হিসেবে যিনি এতদিন সকলের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তাকেই কিনা তপন সিংহ বানিয়ে দিলেন ‘খলনায়ক’। ১৯৬৫ সালে ‘আকাশ কুসুম’ ছবিতেও তরুণ অজয়ের রাতারাতি ধনী হওয়ার গল্প মন কেড়েছিল দর্শকদের। এই ছবির পর সত্যজিৎ রায় ও মৃণাল সেনের মধ্যে তিক্ত পত্রযুদ্ধ বেঁধেছিল।সালটা ১৯৭০। নিত্যানন্দ দত্তর ‘বাক্স বদল’ ছবিতে মানসিক রোগের চিকিৎসক প্রতুল ভট্টাচার্যর চরিত্রে অভিনয় করে তাক লাগিয়েছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। সালটা ১৯৬৯। আশুতোষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তিন ভুবনের পারে’ ছবির নায়ক যেন ভবঘুরে এক রোমিও। সৌমিত্রর অভিনয় আজও ভুলতে পারেনি দর্শক। ১৯৭৩ সালে ‘বসন্ত বিলাপ’ ছবিতে হোস্টেলের নেতা শ্যামসুন্দরের চরিত্রে অভিনয় করে নজর কেড়েছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতিভাবান পরিচালক সত্যজিৎ রায় ও মৃণাল সেনের সঙ্গে কাজ করলেও ঋত্বিক ঘটকের সঙ্গে কাজ করা শেষ অবধি হয়ে ওঠেনি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের। ১৯৭৫ সালে তরুণ মজুমদার করলেন। ১৯৮৩ সালে পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ‘অগ্রদানী’ ছবিতে ব্রাহ্মণ পূর্ণ্য চক্রবর্তীর চরিত্রে সৌমিত্রর অভিনয় আজও ভোলার নয়। তবে বাঙালির ফেলুদা বললেই সবার আগে সৌমিত্রর নাম মাথায় আসে। স্ক্রিনে হোক কিংবা বইয়ের পাতায় সত্যজিতের ফেলুদা গল্পে প্রথম থেকেই একজন আইকনিক হলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ফেলুদা ভক্তরা সকলেই একথা জানেন। কারণ সত্যজিৎ পুত্র সন্দীপ রায়ও নিজেই জানিয়েছেন, কীভাবে তার বাবা সৌমিত্রকে বসিয়ে স্কেচ করতেন। সত্যজিৎ রায়ের এই গোয়ান্দাকে গিয়ে বাঙালির যথেষ্ঠ আবেগ রয়েছে। কারণ একটাই সত্যজিতের ছবিতে তিনিই প্রথম ফেলুদা। চুরুটের টান থেকে চাঁদরের আইকনিক স্টাইল বাঙালির যুবকের কাছে আইডল ফেলুদা। আজও ফেলুদা বলতে একজনের কথা সবার আগে মনে পরে তিনি হলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ফেলুদার কথা উঠলেই একের পর এক প্রসঙ্গ উঠে আসে। গোয়েন্দাকাহিনির হিরো প্রদোষচন্দ্র মিত্র ওরফে ফেলুদার চরিত্রে যে তাকে নেওয়া হতে পারে তা কখনওই ভাবেননি সৌমিত্র। সত্যজিৎ রায় পরিচালিক ফেলুদার প্রথম উপন্যাস সোনার কেল্লার চলচ্চিত্রায়ণের সময় অভিনেতাকে ডেকে পাঠান পরিচালক। নাম ভূমিকায় অভিনয় করার কথা জেনেই রীতিমতো উত্তেজিত হন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। পরবর্তীকালেও বিভিন্ন পত্রিকায়, বই-এ প্রকাশিত ফেলুদার গল্পে প্রধান চরিত্রে তার অবয়ব ফুটিয়ে তোলেন সত্যজিৎ রায়। আর এভাবেই ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’ ছবি তৈরির আগেই গোয়েন্দা ফেলুদা দর্শকদের মনে নিজের জায়গা তৈরী করে নেন।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here