মেদিনীপুরের হারিয়ে যাওয়া পটশিল্প শিলিগুড়ির পুজো মন্ডপে

0
16

দেবীকা দত্ত, শিলিগুড়ি,নয়াজামানা:- করোনার থাবা পড়েছে সব শিল্পে।বাদ যায়নি কিছুই। মানুষের রুজি রোজগার থেকে শুরু করে শিক্ষা ক্ষেত্রেও।তাই গ্রাম বাংলার শিল্পীদের তুলে ধরতে উদ্যোগী হয়েছে শিলিগুড়ির সুভাষপল্লী সঙ্ঘশ্রীর পুজো কমিটি।এক কথায় বলা যায়,মেদিনীপুরের হারিয়ে যাওয়া পটশিল্প শিলিগুড়ির পুজো মন্ডপে। সংঘশ্রী পুজো এবছর ৫৫ তম বর্ষে পদার্পণ করল।এবারের তাদের থিম ‘ঘটে পটে’। প্রসঙ্গত,শিলিগুড়ির সেরা পুজো তালিকায় সংঘশ্রী ক্লাবের দুর্গাপুজো। দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে পশ্চিম মেদিনীপুরের পট শিল্পক। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মেদিনীপুরের শিল্পীরা তৈরি করছে পুজামণ্ডপ। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে তুঙ্গে। করোনার কারনে গত দু বছর ধরে বিগ বাজেটের পুজো গুলি কাটছাট করেছে বাজেটে। যার জেরে সংকটে গ্রাম বাংলার শিল্পীরা। পেটের দায়ে অনেক শিল্পী নিজেদের পেশা বদলে ফেলেছে। আর তাতেই আজ হারাতে বসেছে গ্রাম-বাংলার শিল্পীদের শিল্পীসত্তা। এই মত পরিস্থিতিতে গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া শিল্পকে ফুটিয়ে তুলতে উদ্যোগ নিল শিলিগুড়ি সুভাষ পল্লীতে সংঘশ্রী পুজো কমিটি । মেদিনীপুরের পট শিল্পীদের তুলে ধরতে দুর্গা পুজো মণ্ডপে তুলে ধরা হলো মেদিনীপুরের পট শিল্পকে। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মেদিনীপুর থেকে আসা শিল্পীরা মন্ডপ জুড়ে সাজিয়ে তুলেছে পট চিত্রে। এছাড়াও মন্ডপ সজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে গামছাকে। মাটির ভাঁড়, কলসি, টব, পাখা গামছায় গ্রামীণ কাহিনী অবলম্বনে পটচিত্র মেলে ধরেছেন শিল্পী কার্তিকবাবু। আর তাোর তুলির টানে জীবন্ত হয়ে উঠছে গ্রাম বাংলার কাহিনী। এদিন মেদিনীপুর থেকে আসা পট শিল্পী কার্তিক চিত্রধর বলেন, গত দু’বছর ধরে করোনা সংক্রমণের কারণে বহু মানুষ তাদের পেশা বদলেছে রুজি-রোজগার নিশ্চিত করার জন্য। কিন্তু আমাদের পিঙলা নয়া গ্রাসের পট শিল্পীরা তাদের পূর্ব পুরুষের কাছ থেকে পাওয়া এই শিল্পকে কেউ ছেড়ে যাননি। গ্রামে ২৫০ জন শিল্পী লড়াই করেছেন সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার জন্য। চরম সঙ্কটের দিনে আমাদের কারোরই কাজ ছিল না। কিন্তু তাতেও আমাদের হাত থেকে রঙতুলি হারিয় যায়নি। অন্যদিকে পুজো কমিটির সদস্য সুরজিৎ কর বলেন, সংঘশ্রী ক্লাব প্রতিবছরই বিশেষ আকর্ষণ দর্শকদের নজর কাড়ে। তাই এ বছরও গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়ার শিল্পকে তুলে ধরতে এই প্রচেষ্টা ক্লাবের। এবার করোনা বিধি মেনেই পুজোর আয়জন করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে থাকছে পুজোর দিনগুলিতে করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা প্রচার। আর দৃষ্টিনন্দন মণ্ডপের এক পাশে থাকবে, গত দু’বছরে করোনা সংক্রমণে মৃত প্রতিটি মানুষের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আয়োজন।আমরা বাড়ি বাড়ি চাঁদা তুলছি না। মন্ডপের সামনে ফ্লেক্স ঝুলছে আবেদন জানিয়ে। তাতে বল হয়েছে, কেউ এসে চাঁদা দিলে তা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা নেব না”।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here