জোনাকি সম্পর্কে অবাক করা সব তথ্য

0
71

নয়া জামানা ডেস্কঃ  জোনাকির মতো অদ্ভুত পোকা আছে কমই। পৃথিবীতে প্রায় দু’হাজার প্রজাতির জোনাকি রয়েছে। তবে সব প্রজাতির জোনাকির আলো নেই। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, শুধু প্রাপ্তবয়স্ক জোনাকিরাই আলো উৎপন্ন করে না, জোনাকির লার্ভা, এমনকি এর ডিম থেকেও আলো উৎপন্ন হয়। জোনাকির আলো পৃথিবীর সবচেয়ে বিশুদ্ধ আলো। কারণ এ আলোর পুরোটাই আলোকশক্তি। এখানে আলো ছাড়া অন্য কোনো শক্তি নেই। একটি ইনক্যানডেসেন্ট বাল্বে আলো জ্বললে তাতে মাত্র ১০ শতাংশ থাকে আলোক শক্তি। অন্যদিকে ফ্লুরোসেন্ট বাল্বের আলোতে ৯০ শতাংশই থাকে আলোকশক্তি, বাকি ১০ শতাংশ হয় তাপ শক্তি। কিন্তু জোনাকির আলোর পুরোটাই আলোক শক্তি। এজন্য বিজ্ঞানীরা জোনাকির আলোকে কোল্ড লাইট বা শীতল আলো বলে অভিহিত করেন। জোনাকিরা মাংসাশী বা কীটভোজী প্রাণী। জোনাকির লার্ভা সাধারণত ছোট শামুক বা ক্রিমি খেয়ে থাকে। তবে কিছু প্রজাতির জোনাকি অন্য জোনাকিদেরও খেয়ে থাকে। বিশেষ করে কিছু স্ত্রী জোনাকি পুরুষ জোনাকিদের খেয়ে ফেলে- এমন প্রমাণ রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক জোনাকি শুধুমাত্র প্রজনন এবং ডিম দেওয়ার জন্য বেঁচে থাকে। তাই প্রাপ্তবয়স্কদের খাওয়ার দরকার পড়ে না। লার্ভা সাধারণত এক থেকে দুই বছর বেঁচে থাকতে পারে। জোনাকিরা প্রজনন করার জন্য দেহ থেকে আলো নির্গত করে। এ আলো দিয়ে তারা মূলত সঙ্গীকে তাদের প্রতি আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। কিছু কিছু প্রজাতির মধ্যে এমনটিও দেখা যায় যে, কেবল পুরুষ জোনাকি অথবা কেবল স্ত্রী জোনাকি প্রজননের জন্য আলোর সংকেত দেখাতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুরুষ-স্ত্রী উভয়ই আলো নির্গত করতে পারে। পুরুষ জোনাকিরা আলো জ্বেলে ঘুরে বেড়ায় আর স্ত্রী জোনাকিরা গাছ, গুল্ম কিংবা ঘাসে পুরুষ জোনাকির অপেক্ষা করে। কোনো পুরুষ জোনাকি কাছে এলেই স্ত্রী জোনাকি নিজের আলো দেখিয়ে তাকে প্রজননের সংকেত পাঠায়। তবে শুধু প্রজননের জন্যই নয়, যোগাযোগ এবং শিকারীকে সতর্ক করতেও তারা এ আলো ব্যবহার করে। আক্রমণের শিকার হলে জোনাকিরা তাদের দেহ থেকে ‘রিফ্লেক্স ব্লিডিং’ নামক একধরনের রক্ত নিঃসরণ করে, যা তেতো এবং বিষাক্ত হয়ে থাকে। এজন্য শিকারি প্রাণী বা পোকা তাদের খাদ্যতালিকায় জোনাকিদের রাখে না। তবে বাদুড়ের খাদ্যতালিকায় রয়েছে জোনাকি পোকার নাম।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here